কুদরত রাহমান এর কবিতা / শিকল ছিঁড়বোই

শিকল ছিঁড়বোই কুদরত রাহমান কিছু কিছু ভয়ানক কষ্টভুলে যেতেও প্রচুর কষ্ট হয়কিছু কিছু হৃদয় বিদারক কথাসয়ে নিতে পিঞ্জর কাঁপায়,অহংবাদী একদল মানুষখেকোচিরকালই মানুষকে ঠকায়কিন্তু কি পায় ওরা ….পরিশেষতো একই ঠিকানায় ঠাঁয়,মানুষ হয়ে মানুষকে জিম্মিখুন, ধর্ষণ, রাহাজানিধনী আরও ধনী হওয়ার নেশাওদেরকে অন্ধবাদী সাজায় ,ধ্বংস হোক সভ্যতামানবতা কাঁদুক, তাতে কি আসে যায়,ওরা বাঁচলেই হলোসুখ ওদের নাগালে এলেই হলো,ওরা বুঝি আলাদা বিশ্বের কেউতাইতো পোষা…

কুদরত রাহমান এর কবিতা / যুদ্ধ নামা

যুদ্ধ নামা কুদরত রাহমান গৈ গ্রাম থেকে শুরু কইরা বিশ্বব্যাপী যুদ্ধকলমে কলমে যুদ্ধ, ব্যর্থ হলে ঘাড়ে ধাক্কাসেটাতেও ব্যর্থ হইলে, মেয়াদি ছয়ছিক্কাযুদ্ধটা স্বার্থের, অর্থের পাহাড়ে ধাক্কাধাক্কি। জায়গা জমি অর্থ বিত্ত প্রতিপত্তি লইয়াযুদ্ধ আজ বিশ্বজুড়ে, গোলা বারুদ বিমানবেচবার লগেও যুদ্ধ, নিশ্চুপ গৌতম বুদ্ধকাঙ্গালের যুদ্ধ ভাতের লাইগা,রক্ত টগবগ। পিরামিড , শ্মশান , কবরস্থান অপেক্ষমাণযুদ্ধে বাঁচলে বা মরলে জাতভেদে ঐ ঠিকানাঅহংকার দেমাক প্রাচুর্য ম্লান…

কুদরত রাহমান এর কবিতা / নকশী রুমাল

নকশী রুমাল কুদরত রাহমান সোনামুখো সুঁই, দাদু তুই এনে দিস এক মুতোলাল নীল সব্জে রংয়ের রুমাল সেলাইয়ের সুতো,দাদু হাসে সোহাগ মাখা স্বরে কয়, কার তরেসোহাগী বলে কার তরে আবার, তোমার তরে,ও আচ্ছা আচ্ছা তাহলে কি আর করা ..পড়ন্ত বিকেলে, আলু মাছ পটলে ভরাধামাটা ধপাস্ করে পিড়েনে রেখে, দীর্ঘশ্বাস ফেলেমশকরা করে, হায় হায়, সুতার কথা গেছি ভুলে,দাদু আর দাদী চোখে চোখ…

কুদরত রাহমান এর কবিতা / অপেক্ষা মাত্র

অপেক্ষা মাত্র কুদরত রাহমান কবি একটা ছবি এঁকেছিলেনঅনেক যত্নে অংকিত ছবিনিচে তার লেখা ছিল ” ফুল”তোমরা তাকে পড়েছিলে ভুলছিঁড়ে ফেলেছিলে বিদ্রুপ করেবাতাসে অট্টহাসি ভেসে বেড়ায়কিছু কান্না হাসিতে ধাক্কা খায়ম্লান হয় বিলীন হয় চোখ দেখেকানের ইন্দ্রে করুণ সুর বাজেগণিকারা নৃত্য শেষে কাঁদেকে বা কারা ফেললো তাকে ফাঁদেযে জবাব দেবে ওদের আর্দালিজীবনের সবকিছু উজাড় করেওএক চিলতে ভালোবাসা জোটেনাভালোবাসার অভিনয় বাঁচার জন্যেঅথচ হৃদয়চিরা…

কুদরত রাহমান এর কবিতা / বিজয়

বিজয় কুদরত রাহমান বিজয় মানেযুদ্ধে জয় ঘোর আঁধারের পরাজয়পূর্ব আকাশে রক্তলাল একখণ্ড সূর্যদয়গাঢ় সবুজের আয়তক্ষেত্র চিহ্নিতটকটকে লাল গোলাকার বৃত্তপত্পত্ শব্দে শিরের উর্ধ্বে থাকাএক স্বাধীন শান্তির পতাকা।। বিজয় মানেশয়নে স্বপনে মনে পড়ার ইতিহাসবিভৎস, চেনা অচেনা লাশ আর লাশরাইফেল কামানের মুহুর্মুহ গর্জননববধু কিশোরী বালিকা ধর্ষণবৃদ্ধের কাঁপাস্বরে করুণ আর্তনাদবিধবা নারীর ক্রন্দন বিলাপ বিষাদ।। বিজয় মানেআকাশ কাঁপানো যুদ্ধ ঘোষণার হুংকারযার ঘরে যা আছে অস্ত্রের…

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা / কেউ কথা রাখেনি

কেউ কথা রাখেনি _ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছরকাটলো কেউ কথা রাখেনিছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তারআগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলোশুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকুশুনিয়ে যাবেতারপর কত চন্দ্রভুকঅমবস্যা এসে চলে গেল, কিন্তু সেইবোষ্টুমি আর এলো নাপঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি ।মামাবাড়ির মাঝি নাদেরআলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুরতোমাকে আমি তিন প্রহরের বিলদেখাতে নিয়ে যাবোসেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আরভ্রমর খেলা করে !নাদের আলি, আমি…

কুদরত রাহমান এর ছড়া/ সেলফি

সেলফি কুদরত রাহমান কে তুমি –চিনবো না,কোথায় ঘর –জানবো না,কি জাত –বুঝবোনা,কি সেবা –শুনবো না,কর্ম চাই –ভ্যাকান্সি নাই,গুঁজবো মাথা-ঠাঁই নাই,সেবক আমি –দান নাও,গরীব সেজে –সেলফি দাও। আরও পড়ুন কুদরত রাহমান এর কবিতা / সহজ প্রশ্ন See more and read more qudratwork.চম কুদরত রাহমান এর কবিতা / মর্তের উর্বশী মর্ত্যের উর্বশী কুদরত রাহমান উর্বশী তুই এক আকাশ মেঘ হয়েতপ্ত ধূলিকণা, বালিকণাখাঁ…

কুদরত রাহমান এর কবিতা / সহজ প্রশ্ন

সহজ প্রশ্ন কুদরত রাহমান জানতে চাও কেমন আছে সেইসব মানুষগুলো? যাদের শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে অক্লান্ত পরিশ্রম ছুটছে রোবটের মতো স্বস্তি কাকে বলে জানেনা যাদের পরণে শতাব্দীর ছেঁড়া নোংড়া পোষাক, জানতে চাও ওদের কথা যাদের চর্ম তামাটে নখগুলো কাটার সময় নেই তাই বুনো বুনো চাড়া ওদের দেখে এখনও অনেকেই নাক চেপে ধরে চুলগুলো এলোমেলো চোখদুটো অক্ষিকোটরে, জানতে চাও যাদের নামের…

তসলিমা নাসরিন এর কবিতা/ শ্যামল সুন্দর

শ্যামলসুন্দর তসলিমা নাসরিন তোমাকে দেখলে ইচ্ছে করে শুরু থেকে শুরু করি আমার জীবন।তোমাকে দেখলে ইচ্ছে করে মরে যাই, মরে গিয়ে পুণ্য জল হইকখনও তৃষ্ণার্ত হলে তুমি সেই জল যদি ছুঁয়ে দেখো। আমার আকাশ দেব তুমি রোদ বৃষ্টি যখন যা খুশি চাও নিয়োতোমার অনিদ্রা জুড়ে দেব আমি আমার মর্ফিন। বারো বছরের মতো দীর্ঘ একটি রাত্তির দিয়ো তোমাকে দেখার।তুমি তো চাঁদের চেয়ে…

কুদরত রাহমান এর কবিতা / মায়াবী পাখি

মায়াবী পাখি কুদরত রাহমান সব পাখি পোষ মানেনামধুর সুরে গান করেনা,সব পাখি বন্দী খাঁচায়থাকতে তাহার সাঁয় মেলেনা। পাখির স্বভাব উড়তে চাওয়াযেথায় সেথায় ঘুরতে যাওয়াবৃথায় পাখির পড়লে মায়ায়ছটফটিয়ে মরবি জ্বালায়।। ভালো যদি বাসবি তাহারছেড়ে দে তোর আহার বিহারযাবেই ছেড়ে পাখিটি তোরসময় থাকতে হও হুঁসিয়ার।। যতই শেখাও নীতি বচনশুন্য খাঁচায় ধরবেই পচন।পাখির বড় বেহায়া হৃদয়আসবে যাবে নেবেই বিদায়। আরও পড়ুন কুদরত রাহমান…